হাম (Measles) ও আমাদের করনীয় -
ডাঃ সামসুজ্জামান হাসান
সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) পি,জি,হাসপাতাল,ঢাকা।
ইদানিং দেশের বিভিন্ন স্থানে #Measles বা হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রচুর রোগী ভর্তি হচ্ছে বিশেষ করে শিশু হাসপাতাল ও শিশু বিভাগ গুলোতে। তাই আমি মনে করি এ সম্পর্কে আমাদের সবার জানা ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আসুন এক নজরে এ রোগ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই:
#Measles বা হাম কি:
হাম একটি ভাইরাসজনিত(measles virus) রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে (কাশি, হাঁচি) একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়।
#কাদের বেশি হয়:
এটি মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে টিকা না নিলে বড়দেরও হতে পারে।
#সংক্রমণের উপায়:
আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা শ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বাতাসে ভাইরাস ২ ঘন্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। খুবই উচ্চ সংক্রমণক্ষম।
ইনকিউবেশন পিরিয়ড: ৭–১৪ দিন
সংক্রমণ ছড়ায়: র্যাশ(লালচে দানার মত) ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পরে পর্যন্ত
#লক্ষণসমূহ:
হাম হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়—
*জ্বর (প্রথমে হালকা, পরে বেশি)
*কাশি
*নাক দিয়ে পানি পড়া
*চোখ লাল হওয়া (conjunctivitis)
*মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots)
*৩–৫ দিনের মধ্যে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (rash)
#জটিলতা (Complications):
সাধারণ:
নিউমোনিয়া (সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ)
ডায়রিয়া
Otitis media(মধ্য কর্ণের প্রদাহ)
গুরুতর:
মস্তিষ্কে প্রদাহ (encephalitis)
Subacute sclerosing panencephalitis (বছরের পর বছর পরে হতে পারে)
👉 অপুষ্ট শিশু ও ইমিউনোকম্প্রোমাইজড রোগীদের ঝুঁকি বেশি
#চিকিৎসা:
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত—
*বিশ্রাম
*পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার
*জ্বর কমানোর ওষুধ (যেমন: Paracetamol)
*ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট:
< 6 মাস: 50,000IU
6-11 মাস: 100,000 IU
>_ 12 মাস: 200,000 IU (২ দিন)
জটিলতা হলে:
এন্টিবায়োটিক (Secondary infection হলে)
অক্সিজেন ( Severe pneumonia হলে)
#প্রতিরোধ
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা—
MMR vaccine (Measles, Mumps, Rubella)
সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয় (দেশভেদে সময় ভিন্ন হতে পারে)
#গুরুত্বপূর্ণ কথা
হাম খুব সহজে ছড়ায়, তাই আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং টিকা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।
আসুন আতঙ্কিত না হয়ে নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি। দেশের যে যে স্থানে #Measles বা হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলি এবং সকলে মিলে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করি।
| ফজর | 04:31 am ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:10 pm দুপুর |
| আছর | 04:45pm বিকাল |
| মাগরিব | 06:15 pm সন্ধ্যা |
| এশা | 07:30 pm রাত |
| জুম্মা | 1:30 pm দুপুর |